বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উত্তেজনা কাটাতে পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক ঢাকায়

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উত্তেজনা কাটাতে পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক ঢাকায়

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন ও উত্তেজনার মধ্যে আগামী সপ্তাহে দুই দেশের পূর্বনির্ধারিত পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন এবং ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির বৈঠকটি ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে, যদিও আগে এটি ১০ ডিসেম্বর হওয়ার কথা ছিল।

বৈঠকের আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, বৈঠকটি এক দিন এগিয়ে আসতে পারে। তিনি বলেন, "আমরা চাই ভালো সম্পর্ক, তবে সেটা পারস্পরিক (রেসিপ্রোক্যাল) হতে হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।"

বাংলাদেশে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের মধ্যে অস্বস্তি বৃদ্ধি পায়। ভারতের পক্ষ থেকে বারবার সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠানোর কারণে সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ছে। সর্বশেষ, আগরতলায় বাংলাদেশে সহকারী হাইকমিশনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর হামলা এবং কলকাতা ও মুম্বাইয়ের বাংলাদেশ মিশনে বিক্ষোভ হয়েছে। এই হামলার পর, বাংলাদেশ ভারতীয় হাইকমিশনকে তলব করে প্রতিবাদ জানায়, এবং মিশনে কনস্যুলার কার্যক্রম বন্ধ রাখে।

ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কের এই অস্বস্তি স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বিরল মনে হচ্ছে। বিশেষত, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। এক্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শপথের পর তাকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে, ড. ইউনূস মোদিকে ফোন করে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিকে, ভারতের গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে নানা ধরনের ভুয়া ও অপতথ্য প্রচার করছে। এই পরিস্থিতিতে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন, যা সম্পর্কের জটিলতা আরও বাড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছেন, যা কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের পক্ষ থেকে বিরোধিতা করা হয়েছে।

উত্তেজনার মধ্যে, গত কয়েক মাসে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর কিছুটা অস্বস্তি কাটাতে কিছু বৈঠক হয়েছে। গত অক্টোবরে ঢাকায় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক এবং নভেম্বরে স্থলসীমান্ত ও স্থলবন্দর নিয়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সার্বিক অস্থিরতা কাটানো যায়নি।

এখন, ৯ ডিসেম্বরের পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠকটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন এবং ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের চলমান অস্বস্তি দূর করা এবং সম্পর্কের নতুন পথ খোলা সম্ভব হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই সম্পর্ককে পুনঃস্থাপন করতে কাজ করছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে শ্রদ্ধা ও আস্থা পুনর্স্থাপন করতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ সংবাদ