দুই বছরের মধ্যেই কেনিয়ায় মুনাফার মুখ দেখল স্কয়ার ফার্মা

দুই বছরের মধ্যেই কেনিয়ায় মুনাফার মুখ দেখল স্কয়ার ফার্মা

বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর দুই বছরের মধ্যেই মুনাফায় ফিরেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কেনিয়ার কারখানা। স্কয়ার ফার্মার সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত এই কারখানাটি দেশটিতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কেনিয়া ইপিজেড নামে নিবন্ধিত।

কোম্পানির ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে কেনিয়ার কারখানাটি প্রায় ১০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। ২০২৩ সালের মার্চে উৎপাদন শুরু হওয়া এই কারখানার জন্য এটিই প্রথম লাভজনক বছর। বিদেশের মাটিতে কারখানা স্থাপন করে স্বল্প সময়ে লাভে ফেরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি স্কয়ারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কারখানাটির ব্যবসার পরিমাণ ছিল কেনিয়ান মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৭৪ কোটি সিলিং, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি। আগের অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যবসা বেড়েছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বা ১৭৩ শতাংশের বেশি। এর ফলেই আগের বছরের লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত অর্থবছরে কেনিয়ার কারখানাটির মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ২১ লাখ কেনিয়ান সিলিং, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এর আগে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে কারখানাটি ২৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি লোকসান করেছিল।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কেনিয়ায় ওষুধ কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে সে সময় বিষয়টি শেয়ারধারীদের জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার বড় অংশ জোগান দেয় স্কয়ার ফার্মা নিজেই; বাকি অর্থ আসে ঋণ থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে বিদেশে মূলধন স্থানান্তরের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

কোম্পানি সূত্র জানায়, কেনিয়ার কারখানায় উৎপাদিত ওষুধের বেশির ভাগই স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়। পাশাপাশি দক্ষিণ সুদান ও সোমালিতে সীমিত পরিসরে রপ্তানি করা হচ্ছে। কারখানাটিতে বর্তমানে ২৫০ জনের কর্মসংস্থান রয়েছে, যার মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি এবং বাকিরা কেনিয়ার নাগরিক।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কেনিয়ার কারখানায় বর্তমানে প্রায় ২৭ ধরনের ওষুধ উৎপাদন হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও রপ্তানি বাড়ছে, ফলে দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে।

এদিকে দেশ ও বিদেশের সব কার্যক্রম মিলিয়ে স্কয়ার ফার্মার মোট মুনাফা ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩৭৬ কোটি টাকা বা প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। মুনাফা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের জন্য রেকর্ড লভ্যাংশ ঘোষণাও দিয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জন্য স্কয়ার ফার্মা মোট ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা লভ্যাংশ বিতরণ করবে। প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১২০ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ ১২ টাকা করে লভ্যাংশ দেওয়া হবে, যা বার্ষিক সাধারণ সভার অনুমোদনের পর বিতরণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ