ওসমান হাদির ভাই: বিচার আদায় করতে হলে আন্দোলনের পথেই থাকতে হবে

ওসমান হাদির ভাই: বিচার আদায় করতে হলে আন্দোলনের পথেই থাকতে হবে

আন্দোলনের চাপ না থাকলে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তাঁর ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি। তিনি বলেন, বিচার আদায় করতে হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাত উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন ওমর বিন হাদি।

তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদিকে ভালোবাসলে, তাঁর হত্যার বিচার চাইলে এবং শাহবাগকে ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদমুক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।’ তাঁর ভাষায়, আন্দোলনের চাপ না থাকলে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হবে।

ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরোধিতায় সক্রিয় ছিলেন ওসমান হাদি। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় গত ১২ ডিসেম্বর তিনি হামলার শিকার হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ছয় দিন পর গত বৃহস্পতিবার সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

গতকাল রাষ্ট্রীয় শোক পালনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজার পর তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে ওমর বিন হাদি বলেন, ‘আমরা ওসমান হাদির পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা বা অনুদান চাই না। আমাদের একটাই দাবি—ওসমান হাদির অসমাপ্ত বিপ্লবকে আপনারা সম্পূর্ণ করবেন। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত যেন আপনারা শান্ত না হন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে বিপ্লবী আন্দোলন ওসমান হাদি শুরু করেছিলেন এবং যে আন্দোলনের পথেই তিনি শহীদ হয়েছেন, সেই অসমাপ্ত সংগ্রাম দেশের মানুষকেই শেষ করতে হবে।’

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের জন্য তাঁর সমর্থকেরা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে দায়ী করছেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ফয়সাল করিম মাসুদকে।

পুলিশ ও র‍্যাব এ ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করলেও ফয়সাল করিম মাসুদসহ প্রধান সন্দেহভাজনেরা এখনো পলাতক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, তাঁরা ভারতে পালিয়ে গেছেন। তাঁদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা।

ওমর বিন হাদি বলেন, ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী জসীম উদ্দিন সরকার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ অন্যরা। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

সর্বশেষ সংবাদ